Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ ভ্রমণ করে গেলেন কুড়িগ্রামের রুবেল

মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ ভ্রমণ করে গেলেন কুড়িগ্রামের রুবেল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

অদম্য মনোবল আর দুরন্ত সাহস নিয়ে একের পর এক উপজেলা পরিষদ ভ্রমণ করে যাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর বামনের চর গ্রামের সাকিব আল হাসান রুবেল। উপজেলা ভ্রমণের পাশাপাশি দেখেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, উপভোগ করছেন বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য। ছোট বেলা থেকেই এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতেন রুবেল। এর সঙ্গে যোগ হয় ভ্রমণের নেশা।যখন ভ্রমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি তখন একটি কথা তার মনোবলকে আরো শক্তিশালী করে তুলে কেন সে পারবেনা। পারাটা খুব সহজ। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ স্বাধীকার আন্দোলনের সময়কার সংগ্রামী ভাষণ ‘তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়’। তাইতো চাকরী থেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ভ্রমণ যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভ্রমনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে ফেললেন তিনি। ভ্রমণ শুরুর আগে অবগত করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়, থানা অফিসার ইনচার্জ মহোদয়গণকে।
ভ্রমণের উদ্যেশ্য সারা বাংলাদেশ ঘুরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও উন্নয়ন কর্মকান্ড স্ব-চক্ষে দেখে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করা। এও মহৎ উদ্যেশ্য ছিল“ আমার দেশের উন্নয়ন, করি মূল্যায়ন” নামক শ্লোগান এবং আত্ম স্বাস্থ্য হই সচেতন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় গড়ি জীবন, “দেশি পণ্য বেশি বেশি করি ব্যবহার, এই দেশ তোমার আমার, দেশের অর্থ সঠিক কাজে করি ব্যবহার ” বার্তাগুলো প্রচার করা যা একদিন মানুষের হৃদয়ে আঁচড় কাটবে।

এই স্বপ্নের ভ্রমণের পথ চলা, যা দেখে পথচারীরা সাধুবাদ জানায় মোবাইলে ছবি তোলে আর হাত নেড়ে উৎসাহ যোগায় পথ চলতে। সাবাস বাঙালী এগিয়ে যাও বলে ধন্য হোক দেশ তোমাদের মত গর্বিত সন্তানদের জন্য। মোটকথা তার ব্যাপারে বলতে বলতে হয়, সেই ছোট্ট বেলার পাঠ্যবইয়ের পড়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ সকল্প ‘ কবিতার জীবন্ত রুপ সাকিব আল হাসান রুবেল। তার ভ্রমণের গল্পকে কেন্দ্র করে আজকের এই ফিচার। গত বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২১ইং) ৬ষ্ঠম উপজেলা পরিষদ ভ্রমণ করতে আসেন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়। ঘড়ির কাটা ঠিক এগারোটা সকালের নাস্তা সেরে রওনা হোন প্রথমে মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ীতে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঘুরে দেখেন- জোড়া মন্দির, সরকারি শহীদ স্মৃতি কলেজ, হরে রামেশ্বর মন্দির, গোপাল পালের মন্ডার দোকান ও রাম কিশোর হাই স্কুল। সাকিব আল হাসান রুবেল বলেন, জমিদার আচার্য্য চৌধুরীর বংশ মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেছিলেন। আচার্য্য চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন নবাবের খুবই আস্থাভাজন। নবাবের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১১৩২ সালে তিনি সেই সময়ের আলাপসিং পরগণার বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় বর্তমানে মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নানা কারণে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরীর চার ছেলে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম বগুড়া থেকে আলাপসিং এসে বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বসতি স্থাপনের আগে তারা এ পরগণার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং বর্তমান মুক্তাগাছা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মনস্থির করেন। সে সময় আলাপসিং পরগণায় খুব একটা জনবসতি ছিলনা। চারদিকে ছিলো অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্যের চার ছেলে ব্রক্ষ্রপূত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন। তারা যে স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন, সে স্থানটিকে এখনো পর্যন্ত রাজঘাট নামে ডাকা হয়। রাজঘাটে নৌকা ভিড়ানোর পরবর্তী সময়ে এলাকার অধিবাসীগণ সেই সময়ের প্রথা অনুযায়ী জমিদারদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নজরানা দেন। সেই সময়ে উল্লিখিত স্থানটির নাম ছিল বিনোদবাড়ী। বিনোদবাড়ীর বাসিন্দাগণ ছিল প্রান্তিক চাষী ও জেলে। জমিদারদের যারা নজরানা দিয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যে মুক্তারাম কর্মকার নামক এক ব্যক্তি তার নিজের হাতের একটি পিতলের গাছা বা দীপাধার জমিদারদের নজরানা দেন। জমিদারগণ মুক্তারামের মুক্তা এর সাথে গাছা শব্দটি যোগ করে বিনোদবাড়ীর পরিবর্তে জায়গার নামকরণ করেন মুক্তাগাছা। সেই থেকে মুক্তাগাছা নামকরণটি চলে আসছে।

About kurigrampratidin

Check Also

দিনাজপুরের খানসামায় বিআরডিবি’র সুফলভোগীদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত

চৌধুরী নুপুর নাহার তাজ, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *